নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন নামে গড়ে ওঠা অনলাইন নিজউ পোর্টালের কথিত সংবাদিকদের দৌড়াত্বে মূলধারার সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, সংবাদিকতায় যাদের ন্যুনতম প্রশিক্ষন কিংবা অভিজ্ঞতা নেই এমন লোকজন অনেকেই অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সাংবাদিকতার নামে করছেন অপসাংবাদিকতা। একটা পোর্টাল খুলেই ওই পোর্টালের নামে আইডি কার্ড তৈরি করেন। এসব কথিত সাংবাদিকরা নিজেরা ফায়দা লুটতে এবং সমাজে ভাল মানুষ সেজে প্রভাব বিস্তার করছে।
জানাগেছে, দৈনিক মুক্ত আলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল দীর্ঘ দিন যাবৎ ভুয়া (৬৪২৬) রেজিস্ট্রার নম্বর ব্যবহার করে কার্ড বানিজ্য করে প্রতারণা করে আসছে। সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকা দৈনিক ছাপা খানায় প্রকাশিত হয় মর্মে “সম্পাদক মুক্ত আলো পত্রিকা” ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্ড বানিজ্য করে প্রতারণা করে আসছে। বাস্তবে যার না আছে কোন অফিস না আছে কোন ঠিকানা। এমনকি সম্পাদক ও প্রকাশক আকরাম খান (ছদ্মনাম) ব্যবহার করে আসছে, যার প্রকৃতি নাম শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও সে এবং তার সহযোগী মুক্ত আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ “বন্ধু ওয়েব সাইড” নামে ভুয়া ওয়েব সাইড খুলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বানানোর কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী শামীম আহমেদ টঙ্গী আউচ পাড়া মোল্লা বাড়ী এলাকায় দীর্ঘ দিন ডিস লাইনে কাজ করতো। তাদের না আছে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না আছে সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা। কিন্তু ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সম্পাদক ও প্রকাশক হয়ে গেছে। এছাড়াও, শফিকুলের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে বসবাসরত অবস্থায় বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে টাকা আত্মসাৎ করে গাজীপুর শালনায় পলায়ন এবং পরবর্তীতে শালনায় থাকাকালীন সময়ে সেখানেও প্রতারণা মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার দেশের বাড়ি শেরপুর পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে বসেই সে দৈনিক মুক্ত আলো নামে “ভুয়া” পত্রিকার নিয়োগ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানান। এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানায় দুইটি অভিযোগও রয়েছে।
বিজ্ঞ সাংবাদিকগনেরা মনে করেন, যেখানে একটি দৈনিক পত্রিকার অনুমোদন নিতে পোড়াতে হচ্ছে বহু কাঠখড়ি। সেখানে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল তৈরী করতে মাত্র ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই বনে যাচ্ছেন সম্পাদক, প্রকাশক কিংবা সাংবাদিক। জেলার সর্বত্র মটরসাইকেলে প্রেস লিখে সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন বেশ কিছু ভুয়া সাংবাদিক। নাম সর্বস্ব নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রেসকার্ড। অনেকেই আবার নিজের স্বাক্ষরিত কার্ডে নিজেই সম্পাদক, প্রকাশক, স্টাফ রিপোর্টার কিংবা জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি’র কার্ড ব্যবহার করছেন। এসব অনলাইন পোর্টালের সংবাদ পরিবেশনের কোন বৈধতা দেয়া হয়নি। আবেদন করে বৈধতা প্রাপ্তির পর সংবাদ পরিবেশনের বিধান থাকলেও তারা মানছেনা কিছুই। নিজেরাই কার্ডে স্বাক্ষর করে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছেন। যার ফলে জেলার সংবাদিকতায় বাড়ছে কপি পেস্টের ব্যবহার। অপসাংবাদিকতা ও ভূইফোঁড় সাংবাদিকরা মূলধারার সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এসব অনলাইন পোর্টালের কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি না জানান কারনে ভুক্তভোগীরা অনেকে এদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারছেনা।
