নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আকরাম খান (ছদ্মনাম) উরফে শফিকুল ইসলাম শফিক এবং নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ এর বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় বিভিন্ন প্রতারণার দুইটি অভিযোগ করার পরও পুলিশের উদাসীনতায় দ্বিতীয় আসামি শামীম আহমেদ বিদেশে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারীরা জানান, দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আকরাম খান এবং নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ এর প্রতারণা বিষয়গুলো জানার পর থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনিক তেমন সহযোগীতা আমরা পাইনি। প্রধান আসামি আকরাম খান উরফে শফিকুল ইসলাম শেরপুর পালিয়ে আছে। দ্বিতীয় আসামি শামীম আহমেদ অভিযোগের তিন দিন পর বিদেশে পালিয়ে যায়।
নাজমুল ইসলাম বলেন, গত ২০ মার্চ ২০২১ইং দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার ফেসবুক পেজ স্ক্রোল করলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাই।
সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকায় জেলা,উপজেলা, থানা পর্যায়ে প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞপ্তি দেখে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নম্বরে কল করলে সম্পাদক আকরাম খান নিয়োগের ব্যাপারে কনফার্ম করেন এবং নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ এর সাথে দেখা করতে বলেন। আমি নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ এর সাথে দেখা করি এবং নগদ অফিস খরচ বাবদ ৫০০০ টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে সম্পাদক আকরাম খান ও শামীম আহমেদ এর সাথে আমার আর কোন যোগাযোগ হয়নি।
বাদী অপর একজন একই অভিযোগ করেন।
ভিক্টিমদ্বয় জানান , দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল থাকলেও পরবর্তীতে পত্রিকায় আর নিউজ বের হয় না। তাই সন্দেহবশত এ পত্রিকা সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত খুঁজে বের করি। আর এতে বেরিয়ে আসে আসল থলের বিড়াল।
জানতে পারি, দৈনিক মুক্ত আলো কোন মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা নয়, এছাড়াও তারা ই-পেপার তৈরি করে জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার ফেসবুক পেজে যে বিজ্ঞাপন দিতো এবং ৬৪২৬ যে রেজিষ্ট্রেশন ডি/এ নম্বর ব্যবহার করত সেটা ভুয়া। এমনকি দৈনিক মুক্ত আলো নিউজ পোর্টাল এর ও কোন নিবন্ধন নেই। পরবর্তীতে, আরও অনুসন্ধান চালাই এবং এতে তাদের দুর্নীতির আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। জানতে পারি, তারা এর আগে দৈনিক আমার বাংলাদেশ এবং দৈনিক আমাদের বাংলাদেশ নামে দুইটি ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল বের করে একই পদ্ধতিতে পত্রিকার নামে ফেসবুক পেজ খুলে ভুয়া ই-পেপার তৈরি করে প্রতিনিধি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এছাড়াও বর্তমানে দৈনিক বাংলার সময় এবং দৈনিক মুক্ত আলো ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল তৈরী করে প্রতারণা করে আসছে। জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকার ফেসবুক পেজ স্ক্রোল করে কমেন্টস চেক করে দেখা যায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাদের কাছে থেকে প্রতারণার স্বীকার শরৎ সেলিম, সোহেল কিবরিয়া, জনি, আরিফ হাসান, আবু হানিফসহ অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তারাও বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়।
এখানেই তাদের প্রতারণার শেষ নেই। নিউজ পোর্টাল তৈরী করে দেওয়ার নামে “বন্ধু ওয়েব হোস্ট” নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
জানাগেছে, দৈনিক মুক্ত আলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল দীর্ঘ দিন যাবৎ ভুয়া (৬৪২৬) রেজিস্ট্রার নম্বর ব্যবহার করে কার্ড বানিজ্য করে প্রতারণা করে আসছে। সরকারি মিডিয়া ভুক্ত জাতীয় দৈনিক মুক্ত আলো পত্রিকা দৈনিক ছাপা খানায় প্রকাশিত হয় মর্মে “সম্পাদক মুক্ত আলো পত্রিকা” ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্ড বানিজ্য করে প্রতারণা করে আসছে। বাস্তবে যার না আছে কোন অফিস না আছে কোন ঠিকানা। এমনকি সম্পাদক ও প্রকাশক আকরাম খান (ছদ্মনাম) ব্যবহার করে আসছে, যার প্রকৃতি নাম শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও সে এবং তার সহযোগী মুক্ত আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শামীম আহমেদ “বন্ধু ওয়েব সাইড” নামে ভুয়া ওয়েব সাইড খুলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বানানোর কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী শামীম আহমেদ টঙ্গী আউচ পাড়া মোল্লা বাড়ী এলাকায় দীর্ঘ দিন ডিস লাইনে কাজ করতো। শফিকুল টঙ্গী থেকে পালিয়ে ছদ্মনাম আকরাম খান ব্যবহার করছে। তাদের যোগসাজশে চলছে প্রতারণা। তাদের না আছে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না আছে সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা। কিন্তু ভুয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সম্পাদক ও প্রকাশক হয়ে গেছে।
কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এতসব তথ্য প্রমান ও অভিযোগ থাকা সত্বেও এসব প্রতারকরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে প্রশাসনের নাকের ডোগা দিয়ে তারা বিভিন্ন অপকর্ম ও প্রতারণা করে বেড়ায়। আর সময় সুযোগ বুঝে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমায়। আর অসহায় প্রতারণার স্বীকার ভিক্টিমরা চাঁতক পাখির মতো তাদের পলায়নের দৃশ্য দেখে অবাক বিস্মিত হয়! এত অপরাধ করেও তারা কিভাবে পার পায়! কিভাবে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায়!!
