উত্তরা প্রতিনিধি :
রাজধানী ঢাকার উত্তরায় আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহকর্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।রোববার পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ওই গৃহকর্ত্রীকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—গৃহকর্মী বিলকিস বেগম এবং একটি জুয়েলারি দোকানের মালিক রবিউল আউয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যার ঘটনার দুই দিন আগে আয়েশা আক্তারের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে বিলকিস বেগমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিলকিস পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তার ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেনকে খাওয়ান। তারা অচেতন হয়ে পড়লে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বিলকিস বেগম।
পরে অচেতন অবস্থায় দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আয়েশা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে তার স্বামীকে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। এই মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই। পরে সংস্থাটি ময়মনসিংহ, জামালপুর ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে বিলকিস বেগম ও রবিউল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে পলিথিনের ব্যাগ হাতে বের হয়ে যাচ্ছেন বিলকিস। এটি চেতনানাশক খাওয়ানোর পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ের দৃশ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া পিবিআই জানায়, আসামি বিলকিসের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। পরিচয় গোপন করে গৃহকর্মীর পেশার আড়ালে চুরি করাই ছিল তার মূল কৌশল। এখন পর্যন্ত তার ছয়টি ভিন্ন নামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
